Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

পাগলা'য় যৌতুকের জন্য এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা নয় হত্যা বলছেন নিহতের পরিবার।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার মলমল গ্রামে গত বুধবার রাতে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম রওশন আর (৩০)। নিহতের শশুর বাড়ির লোকজনের দাবী রওশন আরা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে নিহতের বাবা-মা সহ তার পরিবারের লোকজনের দাবী তাদের মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করার পর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে তার স্বামীর পরিবার।


জানা যায়, উপজেলার মলমল গ্রামের ঘাইরা বাড়ির স্বশিক্ষিত কলিম উদ্দিনের স্বশিক্ষিত ছেলে গার্মেন্টস কর্মী রানার সাথে পাশ্ববর্তী দীগলবাগ গ্রামের দরিদ্র হাছান উদ্দিন ওরফে হাছুইন্নার গাজিপুর ভাওয়াল কলেজ থেকে  স্নাতক  ডিগ্রীধারী মেয়ে রওশন আরার নয় বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী রানা ও শশুর  বাড়ির লোকজন যৌতুকের টাকার জন্য রওশনআরার উপর  নির্যাতন চালাতো। বছর কয়েক আগে রানা ঘর করার জন্য তিনলাখ টাকা যৌতুক দাবী করে রওশনারার গরিব পিতার টাকা দিতে দেরি হওয়ায়  রওশন আরার উপর চলতো নির্যাতন আর নির্যাতন  প্রায়ই  মারধর করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে রওশন আরার পিতা ধার দেনা করে বহু কষ্টে সব মিলিয়ে ২ লক্ষ টাকা জামাই রানার হাতে তুলে দেয়। ঘর করার জন্য দুই লক্ষ টাকা দেওয়ার পরও  রওশনআরার উপর নির্যাতন থামেনি। বিগত কয়েকদিন আগেও কয়েকবার  রওশনআরাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার দিন রওশনারা কে পিটিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে  পরিবারের অভিযোগ।


আরও জানা যায়, ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম, এর ডান হাত ৭নং ওয়ার্ড  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় দুই তিন  জন  প্রভাবশালী মহল নিহত রওশনআরার হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করে ‘এ বিষয়ে বেশি ঘাটাঘাটি’ না করার জন্য। ইউপি চেয়ারম্যান, এর পক্ষ থেকে শামসুল হক ও তপন  কে নিহত রওশনারা পিতার বাড়িতে পাঠানো হয় বলে জানা যায়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলটি ইতিপূর্বে যৌতুকের টাকা দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ের শর্তে রওশন আরার পরিবারকে ‘চুপ’ থাকতে বাধ্য করে তারা। তবে গোপন সূত্রে জানা যায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপোষ করে দেয় চেয়ারম্যান ও  শামসুল হক ।


রওশন আরার পিতা হাছান অভিযোগ করে বলেন,  যৌতুকের টাকার জন্য আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক ও মানসিক  নির্যাতন করতো রানা ও তার পরিবার। ঘটনার দিন রওশনারা কে পিটিয়ে আমাকে না জানিয়ে আমার মেয়েকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মারা যাওয়ার পর বলা হয় আমার মেয়ে বিষ পানকরে আত্মহত্যা করেছে। 

রওশনআরার মা মালেকা বানু ও তার বড় ভাই  বলেন, আমাদের  মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগ দিতে চাইলে এলাকার প্রভাবশালী শামসুল হক ও  তপন এসে আমাদের বলে তোমরা গরিব, তোমরা মামলা করে পারবে না অবশেষে গিয়ে দেখবে তোমাদের বাড়ি ভিটের জায়গাও থাকবে না, কারন রানা মিয়া পয়সাওয়ালা লোক, আর তোমাদের অবস্থাও বর্তমান খুব খারাপ মামলা চালাতে পারবে না। তরচেয়ে শালিসের মাধ্যমে যা পাও তা নিয়ে যাও। আমরা গরীব, অসহায় বলে মেয়ের খুনের 

বিচার পেলাম না। 


এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম বলেন, আপোষ মিমাংসার কিছুই না। মেয়ের পরিবারের সাথে  দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপোষ হয়, নিহতের স্বামী রানা মিয়া এখন ২ দুই লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ।

 

গোপন সূত্রে জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী মহল ছেলে পক্ষের সাথে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপোষ মীমাংসা করেছে। এই টাকা থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে রওশনআরার পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের বাড়িতে  শামসুল হক ও তপন এর হাতে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সে টাকা নিহতের পরিবারের হাতে  এখনো দেওয়া হয়নি।


নিহত রওশনারা  পরিবারের  বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি শামসুল হক ও তপন মিয়া বলেছেন এই  দুই লাখ টাকা থেকে ১ লক্ষ  টাকা লাশের ময়নাতদন্ত  ও থানা ম্যানেজ  বাবদ  দিতে হবে আর বাকী এক লাখ টাকা তাদের দেওয়া হবে।


এ বিষয়ে  দত্তের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম  বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।  আর  হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন  এটা হত্যা না কি আমি সঠিক জানিনা তারা দুই  পক্ষ আমার বাড়ি এসেছে আমি তাদের আপোষ করে দেই। 


এ বিষয়ে পাগলা থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন,  লাশের পোষ্টমর্টেম স্বামী রানা পারিবারিক ভাবে করেছে থানা পুলিশ করায়নি। আমরা এ বিষয়ে নিহত রওশন আরার পরিবার থেকে  থানায় কোন অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে আইনগত  ব্যবস্থা নেব

Post a Comment

0 Comments