Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

যশেরের বেনাপোল-পেট্রাপোলে রেললাইন সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে, কমছে ট্রাকনির্ভর আমদানি।

মেহেদী হাসান, যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল-পেট্রাপোলে রেললাইন সংস্কার কাজ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, কমতে শুরু করেছে ট্রাকনির্ভর আমদানি।


এই করেনাকালীন সময়ে রেলপথে আমদানি বাণিজ্যের চাহিদা অনেকটাই বাড়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কতৃপক্ষ।এবং প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে চলতেছে বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর পর্যন্ত পুরোনো ব্রডগেজ রেললাইন সংস্কার ও ডাবল রেললাইন স্থাপনের কাজ এই কাজ।


এখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন হইলে ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য যেমনটা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে ঠিক তেমনি বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।


বেনাপোল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২টি বন্দর দিয়ে রেল ও স্থলপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের কাজ চালু আছে। তবে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে একমাত্র বেনাপোল বন্দর দিয়েই স্থল এবং রেলপথে আমদানি বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াত বেশি হচ্ছে। তারজন্য এ বন্দরের গুরুত্ব অন্যান্য বন্দরের চাইতে অনেক বেশি হয়েছে।


এখানকার সড়ক পথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও ব্রিটিশ আমলে স্থাপন হয়েছিলো এ রেলপথ। এই উপমহাদেশ ভাগের পর বন্ধ হয়ে যায় এই রেলের কার্যক্রম।


পরবর্তীতে রেলের কাজ ২০০০ সালে পুরোনো অবকাঠামোয় আবার শুরু হয়েছিল আমদানি। তবে এখানে ফ্লাই অ্যাশ আর জিপসাম জাতীয় পণ্য সমুহ আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বাণিজ্য। কিন্তুু গতবছর করোনার শুরুতে সংক্রমণ রোধে ভারত সরকার স্থলপথে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় তিন মাস আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে।


 এতে ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হন। সরকারও বঞ্চিত হয় বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় থেকে। পরে এখানকার ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি কার্য শুরু হয়।


এক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলের জরাজীর্ণ-সংকীর্ণ রেলপথেসমুহে নানা বাধা প্রতিবন্ধকতায় চাহিদামতো পণ্য আমদানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছিল এখানে। একটি কার্গো যদি রেলবন্দরে প্রবেশ করলে জায়গার অভাবে আর একটি কার্গো রেল ভারত থেকে প্রবেশ করতে পারত না বলে জানা গেছে। 

এই বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা সরকারের বিভিন্ন মহলে চাপ প্রয়োগ করলে অবশেষে রেলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শুরু করেছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, আগামী ৩ মাসে নির্মাণকাজ শেষ হবার কথা।


যশোরের বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজেদুর রহমান জানান, ব্রিটিশ আমলের রেললাইনে বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহন অনেকটা ঝুঁকিতে ছিল। এবং এখন রেল সংস্কার কাজ হচ্ছে। এতে যেমন এলাকাবাসী খুশি এবং বন্দর কতৃপক্ষ ও খুশি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেলপথে নিরাপদ যাতায়াতে রেল ক্রসিং নির্মাণ দরকার বলে মনে করছেন।


যশেরের বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ আমিনুল হক জানান, করোনার কারণে গত বছরে ব্যবসায়ীরা ভারতের বনগাঁর কালিতলা ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছিল।এবং রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় সে জিম্মিদশা থেকে তারা অনেকটা মুক্তি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। রেলে পরিধি বিস্তার হলে বাণিজ্য আরও প্রসার হবে বলে জানানো হয়েছে।


যশোরের বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেছেন,চট্টগ্রাম বন্দরের পরই বেনাপোল বন্দরের অবস্থান রয়েছে। এবং কদিন পর পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে। এখানকার বন্দরের রেলপথে কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হলে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানানো হয়।


যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মামুন কবীর তরফদার বলেছেন, আমরা যদি ট্রাক বাদ দিয়ে রেলের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি করতে পারি, তাহলে সাধারণত আমাদের দুটো লাভ হবে। প্রথমত, তখন বন্দরে কোনো জট থাকবে না,আর  পাশাপাশি আমদানির সঙ্গে সঙ্গে রফতানিও বেড়ে যাবে বহুগুনে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এ পথে বাণিজ্য যেমন বাড়বে তেমনি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বহুগুনে।


জানানো হয়েছে আগামী তিনমাসের মধ্যে চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হবে বলে জানান যশোর রেল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ অলিউল হক।


জানতে চাইলে, বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান , জরাজীর্ণ রেলপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে। এখানকার উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এ পথে বাণিজ্য যেমন বাড়বে তেমনি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে অনেক গুন।

Post a Comment

0 Comments