Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

গজারিয়ায় নদীর পাড়ে মুজিববর্ষের ঘর অল্প বৃষ্টিতেই ভাঙ্গন

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পানির তোরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া গ্রামের মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের মাঝে বরাদ্দকৃত একটি ঘরের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে । ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েকটি ঘর । এমতাবস্থায় কাজের মান এবং ঘর নির্মাণের স্থান নির্বাচন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন । সরােজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায় , গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে গত শুক্রবার সকালের ২৭ নাম্বার ঘরের বারান্দার কিছু অংশ এবং একটি কলাম ভেঙে পড়ে । ঘরে নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা । পাশের ২৮ নম্বর ঘরটিরও একই অবস্থা । ঘরের তলায় মাটি সরে যাওয়ার কারণে যে কোন মুহূর্তে সেটা ভেঙে পড়তে পারে । ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে একই সারির অন্তত ৬ টি ঘরভেঙে যাওয়া ঘরটির মালিক ওমর আলী । বিষয়টি সম্পর্কে জানতে তার সাথে যােগাযােগের চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি । স্থানীয়রা জানায় , প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও স্থান নির্বাচন এবং কাজের মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন । স্থান নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান কে প্রশ্ন করলে উত্তর তিনি বলেন আমার ইউনিয়নের সকল সরকারি খাস সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে তাই আমি নিরূপায় হয়ে নদীর পাড়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেন। কিন্তু কিছুদিন আগেও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা সরকারি খাস সম্পত্তি উদ্ধার নিয়ে নিউজ করা হলে কোনো কর্ণপাত করেননি তিনি। 


বিবিন্ন ঘরের দেয়াল থেকে উঠে আসছে প্লাস্টার । কয়েকটি ঘরের মেঝে থেকে উঠে আসছে কংক্রিট । সরকারি অনেক খাস জমি থাকা সত্ত্বেও গজারিয়া উপজেলার অধিকাংশ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে নদীর ধারে । যেকোনাে সময় বন্যা এবং বৃষ্টিপাতে যেগুলাে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে । বড় বায়পাড়ায় ২৮ টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে । সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় তার মধ্যে পাঁচটি পরিবার সেখানে থাকছেন । তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান , তারাও এখানে নিয়মিত থাকেন না শুধুমাত্র প্রশাসনের ভয়ে দিনের বেলায় এসে ঘােরাফেরা করেন । এখানে না থাকলে ঘরের বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে এই ভয়ে থেকে অনেকে সকালে রান্না করে নিয়ে আসেন দুপুরে তাকে বিকালে অন্যত্র চলে যান । বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং রান্না করার ব্যবস্থা না থাকায় আপাতত এখানে থাকা সম্ভব নয় বলে জানান তারা ।গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন , বৃষ্টির ফলে একটি ঘরের নিচের মাটি সরে গিয়ে তার কিছু অংশ ও একটি কলম ভেঙে পড়েছে । ইতােমধ্যে তার দপ্তর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে । গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন , কয়েকদিনের টানা বর্ষণে একটি ঘরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা মেরামতের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন তারা । এসব ঘরের ভিত্তি বেশি গভীর নয় বিধায় এ সমস্যাটি হয়েছে । এসব ঘর নির্মাণে কোন অনিয়ম হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন সরকারি গাইডলাইন মেনে ঘরগুলাে নির্মাণ করা হয়েছে । কয়েকটি পরিবার সেখানে থাকা শুরু করেছে শীঘ্রই সেখানে বিশুদ্ধ পানিসহ অন্যান্য সুযােগ - সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে যাতে সবগুলাে পরিবার সেখানে বসবাস করতে পারে । 

Post a Comment

0 Comments